
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, একসময় স্বৈরশাসনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর পৌরসভার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক বলেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, তার মধ্য দিয়ে লঙ্কায় গেলেই হনুমান হবে। যিনিই ক্ষমতায় যাবেন, ৫-১০ বছর পর তিনিই হাসিনায় পরিণত হবেন। তাই শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদ অনেকটাই আলংকারিক হয়ে আছে। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে বাস্তবসম্মত কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে মামুনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্ব থেকে বিচার বিভাগকে বের করে আনতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে মামুনুল হক বলেন, সব রাজনৈতিক দল যদি এ দাবি থেকে সরে যায়, তাহলে প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই জনগণের কাছে গিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার সুযোগ পাবে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমেদ ওসমানী। এতে আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য নূর হোসাইন নূরানীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা