
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান—দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়, কিন্তু আমাদের সবার একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, এ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান।’
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছিল। সেদিন কে মুসলমান আর কে হিন্দু, তা দেখা হয়নি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র বারবার হুমকির মুখে পড়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতা যখন রাজপথে নেমেছে, তখন সহযোদ্ধার ধর্মীয় পরিচয় কেউ খুঁজে দেখেনি।
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারকে বিদায় করতে দেশের প্রতিটি জেলার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। গুলিতে মানুষ রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিংবা চিকিৎসার সময় কোনো চিকিৎসক রোগীর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও লন্ডনে তিনি ছিলেন সংখ্যায় কম। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয়ের চেয়ে একজন নাগরিক হিসেবে অধিকার পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের আইন ও রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
একাত্তরের শহীদ ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিতে ও মিলেমিশে বসবাস করতে পারে, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটে রাজশাহী থেকে সামরিক উড়োজাহাজে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানিসম্পদমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা অভ্যর্থনা জানান।