
আইনের শাসন ও দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছে বিএনপি ও সরকারি সূত্র।
বৃহস্পতিবার ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তার সরকার সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত আইনের শাসন ধাপে ধাপে পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও জানান তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীতে কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাট এবং মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
রাড্ডার ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও তার ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের পশ্চিমের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং ১৪ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ফেরদৌসী আহমেদ সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তার সংরক্ষিত আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাংগঠনিক পরিবর্তন, শুদ্ধি অভিযান বা পদত্যাগের নির্দেশ নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে আপস না করার নীতিরই প্রতিফলন এসব সিদ্ধান্তে দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি দলের ভেতরের হোক বা বাইরের, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকেও পদ-পদবি থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে দলের ভেতরের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, ধারাবাহিকভাবে কমিটি বিলুপ্তি ও পদত্যাগের নির্দেশনা নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণগুলো স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে জানানো প্রয়োজন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, দলের কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলায় জড়ালেও সবাই এর সঙ্গে যুক্ত নন। অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় মেজর (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী ব্যক্তিও অপরাধ করলে আইনের আওতায় আসবেন—সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।