
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক ম্যাচেই দারুণ জয় পেয়েছে ইতালির ক্লাব কোমো। ঘরের মাঠ স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়ায় জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের আগমনের জানান দিয়েছে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল।
কোমোর হয়ে গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিনা, তাসোস দুভিকাস, আসানে দিয়াও ও ম্যাসিমো পেরোনে। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। বড় গোলের সুযোগ তৈরির দিক থেকেও তারা ছিল এগিয়ে—কোমোর ছয়টি বড় সুযোগের বিপরীতে লাইপজিগ তৈরি করতে পেরেছে মাত্র দুটি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়া ১২তম ইতালিয়ান ক্লাব হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাল কোমো। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়া চতুর্থ ইতালিয়ান দলও তারা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিল জুভেন্টাস, এসি মিলান ও উদিনেজে।
অভিষেকেই চার গোল করার আরেকটি নজিরও গড়েছে কোমো। ইতালির দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপিয়ান কাপের অভিষেক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার কীর্তি অর্জন করেছে তারা। এর আগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে রোজেনবার্গকে ৫-০ গোলে হারিয়েছিল সাম্পদোরিয়া।
তবে বড় জয়ের পরও বেশি সময় উদ্যাপনে থাকতে চান না কোচ ফ্যাব্রেগাস। কারণ, সামনে সিরি আ-তে পারমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের মঞ্চে পাওয়া সাফল্যের পর ঘরোয়া লিগেও একই তীব্রতা ধরে রাখা জরুরি।
ফ্যাব্রেগাস বলেন, জয়টি নিয়ে আনন্দ করার সময় খুব বেশি নেই। দলের সামনে দ্রুতই পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে এবং আগের ম্যাচের মতো একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
কোমোর কোচের মতে, এটি ক্লাব ও পুরো শহরের জন্য স্মরণীয় একটি রাত। গত মৌসুমের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এমন সাফল্য এসেছে বলেও মনে করেন তিনি। তবে দলের প্রধান লক্ষ্য এখনো সিরি আ-তে ভালো করা।
তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট ফ্যাব্রেগাস। তাঁর বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চ দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারলে সেই সাফল্যের পূর্ণ মূল্য থাকবে না।
এদিকে একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাব লেন্সও। ১০ জনের স্লাভিয়া প্রাগকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা।