1. admin@weeklyjagat.com : Rijon Ahmed :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা একের পর এক অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: জামায়াত আমির তরুণদের সুস্থ রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ ## ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’: পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে ৪ সেনা নিহত, আহত ৩ দেশের ক্রীড়ায় নতুন যুগের সূচনা এবিজি স্পোর্টস সিটিতে আজই পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক # আজকের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা দেশের বাজারে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেবীরূপে পরীমনি, ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

বাবা

রিজন আহমেদ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার পঠিত

বাবা

রিজন আহমেদ

রাত যত গভীর হয়, শহরের ব্যস্ততা তত কমতে থাকে। একসময় ব্যস্ত সড়কটিও নীরব হয়ে আসে। দোকানের শাটার নামতে শুরু করে, পথচারীর সংখ্যা কমে যায়, একে একে নিভে যায় রাস্তার পাশের আলোও।

কিন্তু শহরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তখনও একজন মানুষ অপেক্ষা করেন।

বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। পরনে পুরোনো পাঞ্জাবি, হাতে একটি ছোট কাপড়ের ব্যাগ। প্রতিদিন রাতেই তিনি রাস্তার পাশে একটি বেঞ্চে বসে থাকেন। কখনো ঘড়ির দিকে তাকান, কখনো দূরের রাস্তার দিকে।

তার অপেক্ষা একজন মানুষের জন্য।

নিজের মেয়ের জন্য।

বাবা

মেয়েটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিদিন অফিস শেষ করতে করতে রাত হয়ে যায়। যানজট, অতিরিক্ত কাজ কিংবা কখনো পরিবহনের সমস্যার কারণে বাড়ি ফিরতে দেরিও হয়।

মেয়েটি বারবার বাবাকে ফোন করে বলেন,
‘আব্বু, তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমি নিজেই চলে আসব।’

কিন্তু বাবা ঘুমান না।

তিনি জানেন, মেয়ে যতই বড় হোক, রাতের শহর তার জন্য নিরাপদ নয়। তাই মেয়ের ফেরার সময় হলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন।

কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দুই ঘণ্টা।

একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। রাস্তায় পানি জমে গেছে। অধিকাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে দোকানের বারান্দায়। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটি তখনও দাঁড়িয়ে।

এক পথচারী তাকে দেখে বললেন,
‘চাচা, এত বৃষ্টিতে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?’

বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
‘মেয়েটা এখনো ফেরেনি।’

লোকটি বললেন,
‘আপনি বাড়িতে যান। মেয়ে তো আসবেই।’

বৃদ্ধ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,
‘ও আসবে জানি। কিন্তু ওকে আসা পর্যন্ত কেউ তো অপেক্ষা করবে।’

কথাটা শুনে পথচারী আর কিছু বলতে পারেননি।

প্রায় চল্লিশ মিনিট পর দূরে একটি অটোরিকশা এসে থামল। ভেতর থেকে মেয়েটি দ্রুত নেমে বাবার দিকে এগিয়ে গেল।

‘আব্বু! তুমি আবার এখানে?’

বৃদ্ধ তখন ভেজা কাপড় ঝাড়তে ঝাড়তে বললেন,
‘তুই আসতে এত দেরি করলি কেন?’

মেয়েটি বাবার হাত ধরে বলল,
‘বৃষ্টি ছিল। রাস্তা জ্যাম ছিল।’

বাবা আর কিছু বললেন না। মেয়ের মাথায় হাত রেখে শুধু বললেন,
‘চল, বাসায় চল।’

সেদিন মেয়েটি বাবার হাত শক্ত করে ধরে হাঁটছিল।

হয়তো সেদিন প্রথমবার তার মনে হয়েছিল—বাবা শুধু তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়ান না।

তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায়।

সময় বদলায়। সন্তানরা বড় হয়। চাকরি, সংসার, ব্যস্ততা—সবকিছুতেই মানুষ ধীরে ধীরে নিজের পৃথিবী তৈরি করে নেয়।

কিন্তু বাবা-মায়ের পৃথিবীটা অনেক সময় সেখানেই থেকে যায়, যেখানে সন্তান ছোট ছিল।

যে সন্তান একসময় স্কুল থেকে ফিরতে দেরি করলে মা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন, সেই সন্তান বড় হওয়ার পরও বাবা-মায়ের অপেক্ষা শেষ হয় না।

শুধু অপেক্ষার জায়গাটা বদলে যায়।

কেউ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ জানালার পাশে বসে থাকেন, আবার কেউ রাতের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন।

কারণ ভালোবাসার কোনো অবসর নেই।

সেই বৃদ্ধ বাবার প্রতিদিনের অপেক্ষার গল্প হয়তো কোনো সংবাদপত্রের বড় শিরোনাম হওয়ার মতো ঘটনা নয়। সেখানে নেই কোনো চমক, নেই কোনো আলোচিত ঘটনা।

তবুও এই অপেক্ষার মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন এক সত্য, যা আমাদের ব্যস্ত জীবনে প্রায়ই ভুলে যাই—

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা আমাদের জন্য অপেক্ষা করাকে কখনো বোঝা মনে করেন না।

তাদের কাছে আমরা যত বড়ই হই, যত দূরেই যাই, দিন শেষে তারা শুধু একটি কথাই জানতে চান—

‘তুমি নিরাপদে বাড়ি ফিরেছ তো?’

আর হয়তো এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ জাতীয় সাপ্তাহিক জগত
প্রযুক্তি সহায়তায় জাতীয় সাপ্তাহিক জগত