যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর তাঁর প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপে তাঁর অনুমোদনের হার কমে এলেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব এখনও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
সিএনএনের পোল অব পোলস অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন জরিপের গড় হিসাবে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩৫ শতাংশ এবং অননুমোদনের হার ৬৩ শতাংশ।
রিপাবলিকান প্রাইমারির ফলাফলেও ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীদের কিছু পরাজয় আলোচনায় এসেছে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে কংগ্রেস বা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ১০ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৪ সালের তিন নির্বাচনী চক্র মিলিয়েও এমন পরাজয়ের সংখ্যা ছিল ১০। তবে একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা এখনও সামগ্রিকভাবে বেশির ভাগ প্রাইমারিতে জয় পাচ্ছেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে বিজ্ঞাপন ও প্রচারে অর্থ ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকানদের প্রথম জাতীয় মধ্যবর্তী সম্মেলনেও ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে প্রচারের কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলটির লক্ষ্য, ট্রাম্পের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে সক্রিয় করা। একই সময়ে কিছু রিপাবলিকান নেতার মধ্যে ট্রাম্পকে অতিরিক্তভাবে নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার কৌশল নিয়ে সংশয়ও দেখা গেছে।
মন্টানায় ‘মন্টানা প্ল্যান’ নামে একটি ব্যালট উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উদ্যোগটির লক্ষ্য করপোরেশন, ইউনিয়ন ও বেনামি অর্থের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা। উদ্যোগটি পাস হলে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থনের মাত্রা, তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের প্রাইমারি ফলাফল এবং রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রভাব—এসব বিষয় মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব সূচকের ভিত্তিতে নভেম্বরের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আগাম নির্ধারণ করা যায় না।