
ইরানের রাজধানী তেহরানের রাতের আকাশে উজ্জ্বল ও বিভিন্ন রঙের আলো ছড়ানো একটি রহস্যময় বস্তু দেখা গেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওগুলো ২০ সেপ্টেম্বর ধারণ করা হয়। এতে তুলনামূলক কম উচ্চতায় একটি আলোকিত বস্তুকে আকাশে চলতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের আজাদোগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত বস্তুটির সঠিক অবস্থান, উচ্চতা, গতি কিংবা আকার সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও বস্তুটি শনাক্ত করা বা এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
রহস্যময় আলোটি কী হতে পারে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে সামরিক ড্রোন বা একাধিক ড্রোনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দূর থেকে দেখা কোনো ঘুড়ি কিংবা অন্য কোনো বস্তুর আলোও এমন দেখাতে পারে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ইরান পুনরায় আক্রান্ত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আঞ্চলিক বিমান চলাচল বাতিল, আকাশসীমা বন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের বিঘ্নের বিষয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
তেহরানের সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৬ সালের একটি আলোচিত ঘটনারও মিল টানা হচ্ছে। ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তেহরানের আকাশে একটি উজ্জ্বল বস্তু দেখার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি অনুসন্ধানে সে সময় ইরানের এফ-৪ যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি ইউএফও গবেষণায় আলোচিত হয়ে ওঠে।
মার্কিন সরকারের প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতেও ১৯৭৬ সালের ওই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির আর্কাইভে এ-সংক্রান্ত জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রতিবেদন, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সারাংশ এবং মার্কিন ডিফেন্স অ্যাটাশের রিপোর্ট সংরক্ষিত আছে।