ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে সেটিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর বলে জানান।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাম উল্লেখ না করে তিনি ওই দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং জনগণের সামনে তাদের ভূমিকা তুলে ধরার কথা বলেন।
ফেনীর ফুলগাজীতে আয়োজিত ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা চালুর কথাও বলেন তিনি।
কৃষকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার গঠনের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভালো ফলাফল ও গুণগত মান বজায় রাখার শর্তে কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সফরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। ফেনী জেলায় ৫ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।