
লাইসেন্স ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর সেবা পরিচালনাকারী ২২টি প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা কিংবা পেমেন্ট সেবা দেওয়া বৈধ নয়। আইনটির ৩৭(১) ধারায় এ ধরনের কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন ২২টি প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করেছে, যারা প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পেমেন্ট এগ্রিগেটর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শনাক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—BohudurPay, ZiniPay, PayTiller, BengaliPay, Payora BD, SohojPay BD, EasyPayWay, AK Pay, BD PAY, ShajgarPay, AsthaPay/CPay, UddoktaPay, Walletmix, BttPay, Easy Pay Automation, UniquePay BD, BD AUTO PAY, RH Pay BD, EzePay, AutoPay Ltd, Biswasto এবং PipraPay।
এ ধরনের অনুমোদনহীন কার্যক্রমে অংশ না নেওয়া এবং এসব প্ল্যাটফর্মে লেনদেন থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে, ‘crossmarket.ai’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার বিষয়েও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদনহীন প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ বা লেনদেন করলে সাধারণ মানুষও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সহজ ও দ্রুত ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে কন্টাক্টস, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ, ভয় দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি নজরে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রচলিত আইন-বিধি ছাড়া কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বৈধ নয়।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরে আসা ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম থেকে নিরাপদ থাকতে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. অপরিচিত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়া।
২. প্রতারণা বা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে অংশ না নেওয়া।
৩. ঋণের প্রলোভনে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য অপরিচিত প্ল্যাটফর্মে না দেওয়া।
৪. ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি দাবি করা হলে সতর্ক থাকা।
এ ধরনের অনুমোদনহীন কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য থাকলে বা কেউ প্রতারণার শিকার হলে বিএফআইইউয়ের ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।