
প্রযুক্তির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাপন, পোশাক ও বিনোদনের ধরন। কিন্তু পুরোনো দিনের স্মৃতি ও নান্দনিকতার প্রতি মানুষের টান যেন কখনোই কমে না। সেই নস্টালজিয়াকে নতুনভাবে সামনে এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে আশির দশকের সাজ ও আবহ ফিরিয়ে আনার নতুন এক ট্রেন্ড।
বর্তমান সময়ের ছবি এআইয়ের মাধ্যমে সম্পাদনা করে তাতে যোগ করা হচ্ছে চার দশক আগের পোশাক, চুলের স্টাইল, রঙ ও পরিবেশ। ফলে ছবিতে থাকা মানুষটিকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি যেন সত্যিই আশির দশকের কোনো সময়ের মানুষ। চওড়া কলারের শার্ট, বড় আকারের ব্লেজার, পোলকা ডটের পোশাক থেকে শুরু করে পুরোনো দিনের চুলের কাট—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে রেট্রো আবহ।
শুধু সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাই নন, এই ট্রেন্ডে যুক্ত হয়েছেন দেশের বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকারাও। পূর্ণিমা, সাফা কবির, তমা মির্জা, তাসনিয়া ফারিণ, বিদ্যা সিনহা মিম, তানজিকা আমিন, মাসুমা রহমান নাবিলা, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খান ও জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ বেশ কয়েকজন তারকার রেট্রো লুকের ছবি ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে।
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি আশির দশকের আদলের একটি ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। ছবিটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘নতুন ট্রেন্ড’।
অভিনেত্রী তানজিকা আমিনও বাদ যাননি এই নতুন উন্মাদনা থেকে। নিজের রেট্রো লুকের ছবি প্রকাশ করে তিনি মজার ছলে লিখেছেন, ‘গা ভাসাইলাম।’
মাসুমা রহমান নাবিলার ছবিতেও দেখা গেছে পুরোনো সময়ের নান্দনিকতার ছাপ। তার পোস্টের ক্যাপশনে উঠে এসেছে সেই সময়ের গান, পোশাক ও সংস্কৃতির প্রতি ভালো লাগার কথা।
বিদ্যা সিনহা মিমও শেয়ার করেছেন আশির দশকের সাজে তৈরি নিজের ছবি। ছোট্ট ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আশির দশকের লুক।’
[caption id="attachment_142" align="alignnone" width="300"]
এ আই ছবি[/caption]
সাফা কবিরের পোস্টেও দেখা গেছে এই ট্রেন্ড নিয়ে উচ্ছ্বাস। আশির দশকের আদলে তৈরি ছবির সঙ্গে তিনি চরকির একটি আয়োজনের প্রসঙ্গ টেনে নিজের চরিত্র ডা. ইরিনের রেট্রো লুক নিয়ে দর্শকদের মতামত জানতে চেয়েছেন।
অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবও নিজের ছবিতে তুলে ধরেছেন চার দশক আগের আবহ। ছবিটির সঙ্গে তার লেখা, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’
তাসনিয়া ফারিণের ছবিতেও দেখা গেছে একই সময়ের সাজ। এআইয়ের তৈরি সেই লুক দেখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে তিনি লিখেছেন, ‘ভালোই হতো।’
সংগীতশিল্পী পড়শীও এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে আশির দশকের একজন হিসেবে কল্পনা করেছেন। নিজের রেট্রো লুকের ছবি প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮০ সালে থাকলে সম্ভবত তাকে এমনই দেখা যেত।
সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এই ট্রেন্ডে অতীত ও বর্তমানের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। বাস্তবে আশির দশকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও এআই প্রযুক্তি সেই সময়ের পোশাক, চুলের ধরন ও পরিবেশকে ছবির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনছে। আর সেই সুযোগেই তারকা থেকে সাধারণ মানুষ—অনেকেই মেতে উঠেছেন পুরোনো দিনের স্মৃতির নতুন এই আয়োজনে।