
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুই দিনে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালানো হয়। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান, যার মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করার দাবি করেছে জর্ডান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর পর এই পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে। বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করলেও জাহাজটি সফলভাবে তা এড়িয়ে যায় এবং কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি। এর জবাবে ওমান উপসাগরে থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়। সেন্টকম দাবি করেছে, হামলার আগে ট্যাংকারের কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং আইআরজিসি তেলের ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি জানায়, তেলের ট্যাংকারে হামলার জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া তারা মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সাধনের দাবি করেছে।
আইআরজিসি একই সাথে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়ে জাহাজের কর্মীদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।